উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫/০৫/২০২৬ ৬:৫৪ এএম

এবারের নার্স দিবসে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক পরিবারে ৫ বোনের সেবিকা হওয়ার গল্প সর্বত্র প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

উপজেলার মাইজঘোনা গ্রামের বাসিন্দা কালু সওদাগরের দশ মেয়ে দুই পুত্র। কন্যারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত হয়ে স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। দুই পুত্রের একজন ব্যবসায়ী, অপরজন প্রবাসী।

পিতা কালু সওদাগরের স্বপ্ন ছিল তার কন্যারা মানুষের সেবা করবে। পিতার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দশ বোনের মধ্যে একে একে পাঁচ কন্যাই ভর্তি হন নার্সিং পেশায়। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তারা আজ প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন হাসপাতালে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

পিতার স্বপ্ন সারথি এই পাঁচ বোন বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন।

পাঁচ কন্যার মধ্যে পারেছা আক্তার- সিনিয়র স্টাফ নার্স, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল।​ সেতারা আক্তার রিমা- সিনিয়র স্টাফ নার্স, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রায়হান জান্নাত- সিনিয়র স্টাফ নার্স, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ‘সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল’।

নাজমীম সোলতানা- সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাজস্থলী এবং ​শান্তা মারিয়া জয়নব- বিএসসি ইন নার্সিং শেষ করে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পারেছা আক্তার বলেন, ‘আজ যখন আমরা সাদা অ্যাপ্রন পরে, বুকে সেবিকার ব্যাজ লাগিয়ে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি, তখন আমাদের মনে হচ্ছে আমরা বাবার স্বপ্ন সত্যি করতে পেরেছি। এই পেশা শুধু জীবিকা নয়, এটা আর্তমানবতার সেবা। বাবা, তুমি যেখানেই আছো, দেখো—তোমার পাঁচ মেয়ে এখন মানুষের সেবায় নিয়োজিত। আমাদের এই পথচলায় তোমাদের সবার দোয়া ও ভালোবাসা কাম্য।’

বড় বোন শিক্ষিকা মোশাররফা বেগম বলেন, পিতা-মাতার স্বপ্ন যখন সন্তানদের হাত ধরে বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তার চেয়ে আনন্দের আর কিছু থাকে না। আমার পাঁচ বোন আজ সেবিকা। মানুষের জীবনের কঠিন সময়ে তোমরা পাশে দাঁড়াবে, সেবা করবে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তোমরা সফল হও, সেবার মাধ্যমে মানুষের দোয়া নাও, বাবার স্বপ্নকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দাও। অভিনন্দন আমার বোনেরা।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাদের সম্পর্কে জেনে খুবই আনন্দিত হয়েছি ও তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই। সেবার এই মহান পেশায় তাদের সফলতা কামনা করছি ও তাদের গর্বিত পিতা মাতার প্রতিও শুভকামনা রইল।

পাঠকের মতামত

 

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের উদ্যোগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...

রোহিঙ্গা খাদ্য কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর হরিলুট!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে জেনারেল ফুড এসিস্ট্যান্ট (জিএফএ) কার্যক্রমের আওতায় মানবিক ...